Trust img
Select City

ওভারিয়ান সিস্ট মানেই কি মা হওয়ার স্বপ্নে বাধা? জানুন এর আধুনিক চিকিৎসা ও সমাধান

মা হওয়ার চেষ্টা করছেন বেশ কিছুদিন ধরে, আর এরই মধ্যে হঠাৎ একদিন রুটিন আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে ‘ওভারিয়ান সিস্ট’ লেখাটা দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে গেলেন? তলপেটে একটানা ব্যথা, পিরিয়ডের গন্ডগোল—সব মিলিয়ে মনে হাজারো প্রশ্ন আর দুশ্চিন্তা কাজ করাটাই স্বাভাবিক। আমাদের চেম্বারে আসা বেশিরভাগ রোগীই শুরুতে ভাবেন, 'সিস্ট মানেই কি ক্যানসার?' বা 'আমার মা হওয়ার স্বপ্ন কি এখানেই শেষ?' সত্যি বলতে, একজন ফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট হিসেবে আমি রোজই মেয়েদের চোখে এই ভয়টা দেখি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, গুগল করে বা লোকমুখে শুনে যতটা ভয় পাচ্ছেন, বিষয়টা অতটাও মারাত্মক নয়। ডিম্বাশয়ে সিস্ট হওয়া মেয়েদের শরীরে খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। সব সিস্ট প্রেগন্যান্সির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, আর সব সিস্টের জন্য পেট কেটে বড় অপারেশনেরও দরকার পড়ে না। সিস্টের ধরন আর আকার বুঝে এখন ওভারিয়ান সিস্টের চিকিৎসা অনেক সহজ আর আধুনিক হয়ে গেছে। হাওড়ায় বিড়লা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ-এ আমরা রোজই এমন অনেক সমস্যার সমাধান করছি খুব আধুনিক আর প্রজনন-বান্ধব উপায়ে। তাই অযথা দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম না উড়িয়ে, আসুন ব্যাপারটা একজন বন্ধুর মতো একটু সহজ করে বুঝে নিই।

বিড়লা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ, হাওড়ায় ওভারিয়ান সিস্ট চিকিৎসার ধাপসমূহ

প্রথম ভিজিটে চিকিৎসক অত্যন্ত আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল পরিবেশে আপনার মেডিকেল হিস্ট্রি শুনবেন। আপনার উপসর্গ এবং পূর্ববর্তী রিপোর্টগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে তিনি আপনাকে সিস্টের বর্তমান অবস্থা এবং সম্ভাব্য চিকিৎসার একটি পরিষ্কার রূপরেখা দেবেন।

ওভারিয়ান সিস্ট কী?

ওভারিয়ান সিস্ট হলো ডিম্বাশয়ের ভেতরে বা বাইরের পৃষ্ঠে তৈরি হওয়া তরল পদার্থে পূর্ণ একটি ছোট থলি বা আবরণ। মহিলাদের প্রজনন বয়সে এই ধরনের থলি তৈরি হওয়া ডিম্বাশয়ের স্বাভাবিক কাজেরই একটি অংশ। এটি কোনো অদ্ভুত বা বিরল রোগ নয়, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাসিক চক্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ তৈরি হয়।

রোগের বর্ণনা

প্রতি মাসে একজন নারীর সুস্থ ডিম্বাশয়ে ‘ফলিকল’ নামক ছোট থলির ভেতরে ডিম্বাণু বড় হতে থাকে। মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে এই ফলিকল ফেটে ডিম্বাণু বেরিয়ে আসে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ওভিউলেশন বলে। যদি কোনো কারণে ফলিকলটি নির্দিষ্ট সময়ে না ফাটে এবং এর ভেতরে ক্রমাগত তরল জমতে থাকে, তবে সেটি ‘ফাংশনাল সিস্ট’-এ পরিণত হয়। এই ধরনের সিস্ট সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যে কোনো ধরনের চিকিৎসা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে মিলিয়ে যায়।

কীভাবে এটি ফার্টিলিটি এবং প্রজনন স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে

ফাংশনাল সিস্ট সাধারণত প্রজনন ক্ষমতায় কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলে না। তবে কিছু ‘প্যাথলজিক্যাল সিস্ট’ যেমন—এন্ডোমেট্রিওমা (যাকে চকলেট সিস্টও বলা হয়) বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের কারণে সৃষ্ট সিস্টগুলো গর্ভধারণের ক্ষেত্রে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এগুলো ধীরে ধীরে ডিম্বাণুর গুণগত মান কমিয়ে দেয়, ফ্যালোপিয়ান টিউবের পথ ব্লক করতে পারে এবং সর্বোপরি ওভারিয়ান রিজার্ভের (ডিম্বাণুর মজুত) স্থায়ী ক্ষতি করে।

ওভারিয়ান সিস্টের লক্ষণ

বেশিরভাগ ওভারিয়ান সিস্ট নীরবে তৈরি হয় এবং কোনো সুস্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই মিলিয়ে যায়। অনেক নারী টেরই পান না যে তাদের ডিম্বাশয়ে সিস্ট হয়েছিল। তবে সিস্ট যদি আকারে অস্বাভাবিক বড় হয়ে যায়, এর ভেতরে রক্তক্ষরণ হয় বা ডিম্বাশয়ের স্বাভাবিক অবস্থান বাঁকিয়ে দেয়, তখন শরীর কিছু নির্দিষ্ট সংকেত দিতে শুরু করে।

সাধারণ লক্ষণসমূহ

সবচেয়ে বেশি যে লক্ষণটি দেখা যায় তা হলো পেলভিক এরিয়া বা তলপেটের একপাশে হালকা থেকে তীব্র ব্যথা। সিস্ট বড় হতে থাকলে পেটে ভারী ভাব বা ফোলাভাব অনুভূত হতে পারে। শারীরিক মিলনের সময় অস্বাভাবিক ব্যথা, অনিয়মিত মাসিক চক্র, এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া ওভারিয়ান সিস্টের অন্যতম প্রধান কিছু লক্ষণ। অনেক সময় পিরিয়ডের রক্তপাতের পরিমাণেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

কখন ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন?

তলপেটে হঠাৎ করে তীক্ষ্ণ ও অসহ্য ব্যথা শুরু হলে, যার সাথে বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা জ্বর থাকে, তা সিস্ট ফেটে যাওয়ার বা ওভারিয়ান টরশনের (ডিম্বাশয় পেঁচিয়ে যাওয়া) লক্ষণ হতে পারে। এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি যেখানে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন। এছাড়া, আপনি যদি গর্ভধারণের চেষ্টা করে এক বছর পরও সফল না হন এবং আপনার মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা থাকে, তবে আর দেরি না করে একজন প্রজনন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ওভারিয়ান সিস্ট কারণ এবং ঝুঁকি

সিস্ট কেন তৈরি হয়, তার বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ বুঝতে পারলে চিকিৎসার রূপরেখা নির্ধারণ করা অনেক সহজ হয়। এটি কেবল হরমোনের সাধারণ তারতম্য নয়, বরং জীবনযাত্রা এবং শারীরিক গঠনের বিভিন্ন উপাদানের একটি জটিল সংমিশ্রণ।

সাধারণ কারণ

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা হলো সিস্ট তৈরির সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রাথমিক কারণ। ওভিউলেশন বা ডিম্বাণু নিঃসরণের প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে সিস্ট তৈরি হতে পারে। এছাড়া এন্ডোমেট্রিওসিস—যেখানে জরায়ুর ভেতরের টিস্যু জরায়ুর বাইরে ডিম্বাশয়ে গিয়ে বাড়ে—সিস্ট গঠনের একটি বড় কারণ। গুরুতর পেলভিক ইনফেকশন বা সংক্রমণ ডিম্বাশয় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লেও পুঁজ-ভর্তি জটিল সিস্ট তৈরি হতে পারে।

যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়ে

যাদের অতীতে সিস্ট হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের পুনরায় সিস্ট হওয়ার প্রবণতা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। ফার্টিলিটি চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ অনেক সময় ডিম্বাশয়কে বেশি উদ্দীপ্ত করে মাল্টিপল সিস্ট তৈরি করতে পারে। এছাড়া থাইরয়েডের সমস্যা এবং অনিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইলের কারণে সৃষ্ট পলিসিস্টিক ওভারি সিস্ট গঠনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতাও এই ঝুঁকির মাত্রাকে তরান্বিত করে।

ওভারিয়ান সিস্ট নির্ণয়

সঠিক ও কার্যকর চিকিৎসা শুরু করার প্রথম ধাপ হলো নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয় করা। সব সিস্ট অপারেশনের প্রয়োজন হয় না, তাই সিস্টের প্রকৃতি এবং আকার নিখুঁতভাবে মাপাটা একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শারীরিক পরীক্ষা

চিকিৎসক প্রথমেই একটি পেলভিক এক্সামিনেশন বা অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা করেন। এর মাধ্যমে তলপেটে কোনো অস্বাভাবিক ফোলাভাব বা লাম্প আছে কিনা তা ম্যানুয়ালি অনুভব করার চেষ্টা করা হয়। এই সাধারণ প্রাথমিক পরীক্ষাতেই অনেক সময় বড় আকারের সিস্ট খুব সহজেই ধরা পড়ে যায়।

ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা

সিস্টের ধরন এবং গভীরতা নিশ্চিত করতে আল্ট্রাসাউন্ড সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

  • টিভিএস আল্ট্রাসাউন্ড: সিস্টের আকার, অবস্থান ও প্রকৃতি দেখা যায়। এটি তরল পূর্ণ, কঠিন নাকি মিশ্রিত তা নিশ্চিত করে।
  • CA-125 রক্ত পরীক্ষা: রক্তে নির্দিষ্ট মার্কারের মাত্রা মাপা হয়। এন্ডোমেট্রিওসিস বা জটিল সিস্টের ক্ষেত্রে এই মাত্রা বেশি থাকে।
  • এমআরআই স্ক্যান: পেলভিক এরিয়ার অত্যন্ত বিস্তারিত চিত্র পাওয়ার জন্য জটিল ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়।

ফার্টিলিটি মূল্যায়ন

যদি রোগী গর্ভধারণের আপ্রাণ চেষ্টা করেন, তবে শুধুমাত্র সিস্ট দেখলেই হয় না, প্রজনন ক্ষমতার ওপর এর প্রভাবও মাপতে হয়। অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন (AMH) এবং এন্ট্রাল ফলিকল কাউন্ট (AFC) পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হয় সিস্টের কারণে সুস্থ ডিম্বাণুর মজুত কমে যাচ্ছে কিনা বা ওভারির রিজার্ভ কতটা সুরক্ষিত আছে।

চিকিৎসার জন্য কেন বেছে নেবেন বিরলা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ? হাওড়া

পরিবার গঠনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সঠিক ফার্টিলিটি ক্লিনিক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Birla Fertility & IVF-এ আমরা ব্যক্তিগতকৃত (Personalized Care) চিকিৎসা পরিষেবার মাধ্যমে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ধাপে আপনাকে সহায়তা করি। আমাদের অত্যাধুনিক ল্যাব, উন্নত প্রযুক্তি এবং উচ্চ সাফল্যের হারের ফলে ২,৩০,০০০-এরও বেশি রোগীকে অভিভাবক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছি।

হাওড়ায় ওভারিয়ান সিস্টের চিকিৎসা

বিগত কয়েক বছরে সিস্টের চিকিৎসায় বিশাল এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। আগে সিস্ট মানেই পেট কেটে বড় সার্জারি মনে করা হলেও, বর্তমানে হাওড়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক বেশি রক্ষণশীল এবং প্রজনন-বান্ধব হয়ে উঠেছে। মূল লক্ষ্য থাকে ডিম্বাশয়ের কোনো ক্ষতি না করে সিস্ট নির্মূল করা।

উপলব্ধ চিকিৎসার বিকল্প

সিস্টের আকার যদি তুলনামূলকভাবে ছোট (৫ সেন্টিমিটারের কম) হয় এবং এটি কেবল তরলে পূর্ণ থাকে, তবে চিকিৎসকরা সাধারণত ‘অপেক্ষার নীতি’ অনুসরণ করেন। কয়েক মাস পর পুনরায় আল্ট্রাসাউন্ড করে দেখা হয় সিস্টটি নিজে থেকে মিলিয়ে গেছে কিনা।

মেডিকেল ম্যানেজমেন্ট

যেসব সিস্ট বারবার ফিরে আসে বা অস্বস্তি তৈরি করে, সেগুলো প্রতিরোধ করার জন্য চিকিৎসক হরমোনাল কন্ট্রাসেপটিভ পিলস (জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি) দিতে পারেন। এই ওষুধগুলো ওভিউলেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে, ফলে নতুন করে সিস্ট তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে যারা এই মুহূর্তে সন্তান নিতে চাইছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি একেবারেই প্রযোজ্য নয়।

ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতি

সিস্ট যদি আকারে বড় হয়, তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে বা এন্ডোমেট্রিওমা হয়, তবে ল্যাপারোস্কোপিক সিস্টেক্টমি করা হয়। পেটে খুব ছোট ছিদ্র করে ক্যামেরার সাহায্যে সাবধানে সিস্টটি বের করে আনা হয়। অভিজ্ঞ ফার্টিলিটি সার্জনরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এমনভাবে এই সার্জারি করেন যাতে সুস্থ ওভারিয়ান টিস্যু বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, যা ফার্টিলিটি ধরে রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি।

সহায়ক প্রজনন চিকিৎসা

সিস্টের কারণে যদি ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্বাভাবিক গর্ভধারণ কঠিন হয়ে পড়ে, তখন আইইউআই বা আইভিএফ-এর মতো উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়। বিশেষ করে এন্ডোমেট্রিওসিসের রোগীদের ক্ষেত্রে, যেখানে বারবার সিস্ট ফিরে আসার প্রবণতা থাকে, সেখানে আইভিএফ একটি অত্যন্ত সফল এবং ভরসাযোগ্য বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত।

প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সুবিধা

প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সময় হলো সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। সিস্ট ছোট থাকতে শনাক্ত করা গেলে তা চিকিৎসা করা সহজ হয় এবং ডিম্বাশয়ের স্থায়ী ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়। দেরি করলে অনেক সময়ই পরিস্থিতি জটিল রূপ নেয় এবং চিকিৎসার খরচও বেড়ে যায়।

উন্নত ফার্টিলিটি ফলাফল

সঠিক সময়ে এন্ডোমেট্রিওমা বা জটিল সিস্ট সরিয়ে ফেললে ডিম্বাশয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। এর ফলে ডিম্বাণুর গুণমান ভালো থাকে এবং প্রাকৃতিকভাবে বা আইভিএফ-এর মাধ্যমে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

উন্নত দীর্ঘমেয়াদী প্রজনন স্বাস্থ্য

প্রাথমিক চিকিৎসায় সিস্ট অপসারণ করলে পেলভিক ইনফেকশন বা ক্রনিক পেলভিক পেইনের মতো কষ্টদায়ক দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি জরায়ু এবং ডিম্বাশয়ের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ভবিষ্যতের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে।

জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস

বড় সিস্ট ওভারিকে নিজের অক্ষে পেঁচিয়ে ফেলতে পারে, যার ফলে ওভারিতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে সেটি গ্যাংগ্রিন হয়ে যেতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা করলে এই ধরনের মেডিকেল ইমার্জেন্সি বা সিস্ট ফেটে গিয়ে পেটের ভেতর মারাত্মক রক্তক্ষরণ হওয়ার ঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনা যায়।

হাওড়ায় ওভারিয়ান সিস্টের চিকিৎসার জন্য বিড়লা ফার্টিলিটিকে কেন বেছে নেবেন?

ফার্টিলিটি চিকিৎসায় একটি মানসম্মত ক্লিনিক নির্বাচন করাটা আপনার যাত্রার সাফল্যের হার অনেকাংশে নির্ধারণ করে দেয়। বিশেষ করে যখন সিস্টের চিকিৎসার পাশাপাশি আপনার মূল লক্ষ্য থাকে একটি সুস্থ সন্তান লাভ। বিড়লা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ এই দুইয়ের মধ্যে একটি নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখে।

অভিজ্ঞ ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ

এই ক্লিনিকে রয়েছেন একদল আন্তর্জাতিক মানের প্রজনন বিশেষজ্ঞ এবং গাইনোকোলজিক সার্জন। সিস্ট সার্জারি করার সময় ঠিক কতটুকু টিস্যু কাটা হবে আর কতটুকু বাঁচানো হবে—এই সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ক্লিনিক্যাল দক্ষতা প্রশ্নাতীত।

উন্নত ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি

উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন থ্রিডি আল্ট্রাসাউন্ড এবং অত্যাধুনিক হরমোন অ্যানালাইজার ব্যবহার করে এখানে সিস্টের নিখুঁত ম্যাপিং করা হয়। একটি ছোট ডায়াগনস্টিক ভুলও ফার্টিলিটির বড় ক্ষতি করতে পারে, তাই এখানে প্রযুক্তির সেরা ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়।

প্রমাণ-ভিত্তিক চিকিৎসা প্রোটোকল

বিড়লা ফার্টিলিটিতে ‘অযথা সার্জারি নয়’ নীতি কঠোরভাবে মেনে চলা হয়। প্রতিটি রোগীর বয়স, ডিম্বাণুর মজুত এবং সিস্টের ধরনের ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

অত্যাধুনিক আইভিএফ ল্যাবরেটরি

যেসব ক্ষেত্রে সিস্টের কারণে স্বাভাবিক গর্ভধারণ সম্ভব হয় না, তাদের জন্য রয়েছে ক্লাস-১০০ ল্যামিনার ফ্লো যুক্ত অত্যাধুনিক এমব্রায়োলজি ল্যাব। এই ল্যাবের পরিবেশ একটি ভ্রূণের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য পুরোপুরি মাতৃগর্ভের মতো আদর্শ।

ব্যক্তিগতকৃত ফার্টিলিটি কেয়ার

প্রত্যেক নারীর শারীরিক গঠন আলাদা এবং তার সিস্টের প্রকৃতিও ভিন্ন। তাই এখানে কোনো গৎবাঁধা চিকিৎসা সবাইকে দেওয়া হয় না। চিকিৎসকরা রোগীর সাথে বিস্তারিত কথা বলে তার ভবিষ্যৎ পরিবার পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখে একটি কাস্টমাইজড প্ল্যান তৈরি করেন।

পরামর্শের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া

চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়ার আগে মানসিকভাবে এবং কাগজপত্রের দিক থেকে প্রস্তুত থাকলে প্রথম দিনের আলোচনা অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়। আপনার দেওয়া সঠিক তথ্য চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা করে এবং অযথা সময় বাঁচে।

যেসব মেডিকেল রেকর্ড আনবেন

আপনার পূর্ববর্তী সমস্ত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন এবং টেস্টের সামারি গুছিয়ে রাখুন। বিশেষ করে যদি আগে কোনো পেলভিক সার্জারি বা সিস্ট অপারেশন হয়ে থাকে, তার রিলিজ অর্ডার এবং বায়োপসি রিপোর্ট অবশ্যই ফাইলিং করে সাথে নিয়ে যাবেন।

ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট যা প্রয়োজন হতে পারে

  • সাম্প্রতিক পেলভিক আল্ট্রাসাউন্ড বা টিভিএস স্ক্যানের মূল ফিল্ম ও রিপোর্ট।
  • হরমোন প্যানেলের ব্লাড টেস্ট রিপোর্ট।
  • যদি আপনারা গর্ভধারণের চেষ্টা করে থাকেন, তবে স্বামীর বীর্য বিশ্লেষণের রিপোর্ট।

ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞকে যে প্রশ্নগুলো করা উচিত

লজ্জা বা ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের কাছে নিজের মনের সমস্ত সন্দেহ পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। আপনি নির্দ্বিধায় জিজ্ঞেস করতে পারেন:

  • আমার সিস্টটি কি ক্যানসারাস হওয়ার কোনো ক্ষুদ্র সম্ভাবনাও আছে?
  • এই মুহূর্তে সার্জারি কি সত্যিই বাধ্যতামূলক, নাকি ওষুধ দিয়ে চেষ্টা করা যায়?
  • এখানে সিস্টের চিকিৎসার আনুমানিক খরচ কেমন হতে পারে?
  • এই সিস্ট কি আমার ওভারিয়ান রিজার্ভ বা ডিম্বাণুর সংখ্যা স্থায়ীভাবে কমিয়ে দিচ্ছে?

বিরলা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ-এ রোগীদের অভিজ্ঞতা, হাওড়া