এন্ডোমেট্রিওসিস চিকিৎসা: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
বিড়লা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ, কলকাতায় এন্ডোমেট্রিওসিস চিকিৎসার ধাপসমূহ
প্রথম ধাপে ডাক্তার রোগীর সমস্যার কথা বিস্তারিত শোনেন। ব্যথার তীব্রতা, মাসিকের ধরন এবং গর্ভধারণের চেষ্টার ইতিহাস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নোট করা হয়। এই আলোচনার মাধ্যমেই চিকিৎসার একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি হয়।
এন্ডোমেট্রিওসিস কী?
এটি জরায়ু এবং পেলভিক এলাকার একটি দীর্ঘমেয়াদী বা ক্রনিক প্রদাহজনিত রোগ। এই রোগটি কেবল শারীরিক কষ্টই দেয় না, বরং ধীরে ধীরে প্রজনন অঙ্গগুলোর স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে দেয়। আসুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এর অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াটি বোঝা যাক।
রোগের বর্ণনা
স্বাভাবিক অবস্থায় জরায়ুর ভেতরের দেওয়ালে একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যাকে বলা হয় এন্ডোমেট্রিয়াম। প্রতি মাসে পিরিয়ডসের সময় এই আস্তরণটি ভেঙে রক্ত হিসেবে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু এন্ডোমেট্রিওসিসের ক্ষেত্রে, জরায়ুর ভেতরের এই একই রকমের টিস্যু জরায়ুর বাইরে, যেমন ডিম্বাশয় (ওভারি), ফ্যালোপিয়ান টিউব, অন্ত্র বা পেলভিসের অন্যান্য অঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে।
মুশকিল হলো, শরীরের ভেতরের এই টিস্যুগুলোও মাসিক চক্রের হরমোনের প্রভাবে সাড়া দেয়। তারা প্রতি মাসে ফুলে ওঠে এবং রক্তপাত ঘটায়। কিন্তু জরায়ুর বাইরের এই রক্তের শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো পথ থাকে না। ফলে সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে সিস্ট, প্রদাহ এবং আঠালো দাগ বা স্কার টিস্যু (Adhesions) তৈরি হয়।
এটি কীভাবে উর্বরতা এবং প্রজনন স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে
সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে এন্ডোমেট্রিওসিস একটি বহুমুখী বাধা সৃষ্টি করে।
প্রথমত, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং ওভারির আশেপাশে স্কার টিস্যু তৈরি হওয়ার ফলে টিউব ব্লক হয়ে যেতে পারে, যার কারণে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন অসম্ভব হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়ত, ওভারিতে চকোলেট সিস্ট বা এন্ডোমেট্রিওমা তৈরি হলে তা সুস্থ ডিম্বাণু তৈরির জায়গাকে ধ্বংস করে দেয় এবং ডিম্বাণুর গুণমান মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।
তৃতীয়ত, পেলভিক এলাকায় একটানা প্রদাহ শুক্রাণুর সচলতা কমিয়ে দেয় এবং ভ্রূণ জরায়ুতে প্রতিস্থাপিত হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এন্ডোমেট্রিওসিসের লক্ষণ
পেলভিক পেইন বা তলপেটে ব্যথা অনেকেরই হয়, কিন্তু সাধারণ ব্যথার সঙ্গে এই রোগের ব্যথার পার্থক্য রয়েছে। শরীরের ভেতরে প্রদাহ যখন বাড়তে থাকে, তখন শরীর কিছু নির্দিষ্ট সতর্কবার্তা পাঠায়। এই এন্ডোমেট্রিওসিসের লক্ষণ গুলোকে সময়মতো চিহ্নিত করাটা সফল চিকিৎসার প্রথম ধাপ।
সাধারণ লক্ষণসমূহ
এই রোগের উপসর্গ সবার ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। অনেকের মারাত্মক সিস্ট থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যথা থাকে না, আবার অনেকের সামান্য টিস্যু বৃদ্ধিতেই তীব্র যন্ত্রণা হয়। প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- পিরিয়ডসের সময় বা তার আগে তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ক্র্যাম্প
- শারীরিক মিলনের সময় (Dyspareunia) পেলভিক এলাকায় গভীর ব্যথা অনুভব করা।
- মাসিকের সময় মলত্যাগ বা প্রস্রাব করার সময় অস্বাভাবিক ব্যথা হওয়া।
- দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এবং পিরিয়ডসের সময় অতিরিক্ত বা অনিয়মিত রক্তপাত।
কখন আপনার একজন ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
যদি আপনার পিরিয়ডসের ব্যথা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে আপনাকে স্কুল, কলেজ বা অফিস থেকে ছুটি নিতে হচ্ছে, তবে সেটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। এ ছাড়া আপনি যদি সন্তান ধারণের জন্য গত ছয় মাস ধরে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন এবং আপনার এই ধরনের পেলভিক ব্যথার ইতিহাস থাকে, তবে আর দেরি না করে অবিলম্বে একজন ফার্টিলিটি বা এন্ডোমেট্রিওসিস বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা উচিত। সাধারণ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের চেয়ে একজন ফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট আপনার ওভারিয়ান রিজার্ভ (ডিম্বাণুর মজুত) রক্ষা করার দিকে বেশি জোর দেবেন।
এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণ এবং ঝুঁকির বিষয়গুলো
মেডিক্যাল সায়েন্সে এত উন্নতির পরও এন্ডোমেট্রিওসিসের একেবারে নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণ আজও পুরোপুরি প্রমাণিত নয়। তবে চিকিৎসকরা এবং গবেষকরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল থিওরি এবং লাইফস্টাইল ফ্যাক্টরকে এই এন্ডোমেট্রিওসিসের হিসাবে দায়ি করে থাকেন।
সাধারণ কারণ
রোগটির উৎপত্তি বোঝাতে বিশেষজ্ঞরা মূলত কয়েকটি থিওরির ওপর নির্ভর করেন:
| কারণ/থিওরি | বিস্তারিত ব্যাখ্যা |
| রেট্রোগ্রেড মেনস্ট্রুয়েশন | মাসিকের রক্ত যোনিপথ দিয়ে বাইরে না এসে উল্টোপথে ফ্যালোপিয়ান টিউব দিয়ে পেলভিক গহ্বরে প্রবেশ করে এবং সেখানে আটকে গিয়ে বাড়তে শুরু করে। |
| ইমিউন সিস্টেমের ত্রুটি | শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন জরায়ুর বাইরের এই অস্বাভাবিক টিস্যুগুলোকে চিনতে ও ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বাসা বাঁধে। |
| সেলুলার মেটাপ্লাসিয়া | হরমোন বা ইমিউন ফ্যাক্টরের প্রভাবে পেলভিসের সাধারণ কোষগুলো হঠাৎ করে এন্ডোমেট্রিয়াল কোষে রূপান্তরিত হয়ে যায়। |
যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়ে
কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক এবং জিনগত কারণে একজন নারীর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়। যদি আপনার মা, বোন বা মাসির এই রোগ থেকে থাকে, তবে আপনার জিনগতভাবে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া খুব অল্প বয়সে মাসিক শুরু হওয়া, ঋতুচক্র খুব ছোট হওয়া (২৭ দিনের কম), শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের আধিক্য এবং আগে কখনো গর্ভধারণ না করা এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
এন্ডোমেট্রিওসিস নির্ণয়
এই রোগটি কেবলমাত্র লক্ষণ শুনে বা বাইরে থেকে পেট টিপে নিশ্চিতভাবে ডায়াগনসিস করা যায় না। অনেক রোগী বছরের পর বছর ভুল চিকিৎসার শিকার হন শুধুমাত্র সঠিক ডায়াগনস্টিক অ্যাপ্রোচের অভাবে। আধুনিক চিকিৎসায় রোগটি ঠিক কোন স্টেজে (স্টেজ ১ থেকে ৪) আছে তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
শারীরিক পরীক্ষা
প্রাথমিক কনসালটেশনে চিকিৎসক একটি বিস্তারিত পেলভিক এক্সামিনেশন করেন। যোনিপথ ও মলদ্বারের পেছনের অংশে কোনো শক্ত নডিউল বা দলা আছে কি না, তা পরীক্ষা করবেন। এই পরীক্ষাটি চিকিৎসকদের রোগের তীব্রতা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা দেয়।
ডায়াগনস্টিক টেস্ট বা পরীক্ষা
রোগ নির্ণয়ের মূল ভিত্তি হলো ইমেজিং টেস্ট। একটি হাই-রেজোলিউশন ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড (TVS)-এর মাধ্যমে ওভারিতে থাকা চকোলেট সিস্ট খুব সহজেই ধরা পড়ে। তবে রোগটি যদি অন্ত্র বা মূত্রথলির মতো গভীরে ছড়িয়ে পড়ে (Deep Infiltrating Endometriosis), তখন পেলভিক এমআরআই (MRI) করা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। এর মাধ্যমে সার্জনরা অপারেশনের আগে রোগের সঠিক ম্যাপ তৈরি করতে পারেন।
ফার্টিলিটি ইভ্যালুয়েশন
যাঁরা মাতৃত্বের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য ইমেজিংয়ের পাশাপাশি প্রজনন ক্ষমতার মূল্যায়ন করাটা সমান জরুরি। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে AMH (অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন) লেভেল চেক করে দেখা হয় ওভারিতে আর কত ডিম্বাণু বেঁচে আছে। কারণ এন্ডোমেট্রিওসিস নিজেই ডিম্বাণুর সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
চিকিৎসার জন্য কেন বেছে নেবেন বিরলা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ? কলকাতা
পরিবার গঠনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সঠিক ফার্টিলিটি ক্লিনিক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Birla Fertility & IVF-এ আমরা ব্যক্তিগতকৃত (Personalized Care) চিকিৎসা পরিষেবার মাধ্যমে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ধাপে আপনাকে সহায়তা করি। আমাদের অত্যাধুনিক ল্যাব, উন্নত প্রযুক্তি এবং উচ্চ সাফল্যের হারের ফলে ২,৩০,০০০-এরও বেশি রোগীকে অভিভাবক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছি।
এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা
কলকাতা এখন এই এন্ডোমেট্রিওসিস রোগের চিকিৎসকরা অনেক কম খরচে উপলব্ধ করতে পারবেন। এখন রোগীদের বয়স, রোগের স্টেজ এবং মাতৃত্বের লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে কাস্টমাইজড চিকিৎসা প্রদান করছেন, যা আন্তর্জাতিক প্রটোকলের সমতুল্য।
সহজলভ্য চিকিৎসার বিকল্প
চিকিৎসার কোনো “ওয়ান-সাইজ-ফিটস-অল” বা সর্বজনীন নিয়ম নেই। একজন ২২ বছরের অবিবাহিতা মেয়ের চিকিৎসার লক্ষ্য হবে ব্যথা কমানো, অন্যদিকে ৩৫ বছরের একজন বিবাহিত নারীর লক্ষ্য হবে দ্রুত গর্ভধারণ। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।
মেডিকেল ম্যানেজমেন্ট
রোগটি যদি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে এবং রোগীর প্রধান সমস্যা শুধু ব্যথা হয়, তবে হরমোনাল থেরাপি সবচেয়ে বেশি কাজ করে। বার্থ কন্ট্রোল পিল (OCPs), প্রোজেস্টিন অনলি পিল, বা GnRH অ্যাগোনিস্ট ইনজেকশন ব্যবহার করে মাসিক চক্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে এন্ডোমেট্রিয়াল টিস্যুগুলো আর বাড়তে পারে না এবং প্রদাহ কমে যায়।
ন্যূনতম ইনভেসিভ পদ্ধতি (ল্যাপারোস্কোপি)
ওষুধে কাজ না হলে বা বড় আকারের চকোলেট সিস্ট থাকলে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির প্রয়োজন হয়। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আধুনিক যুগে শুধু টিস্যু পুড়িয়ে ফেলা (Ablation) নয়, বরং লেজারের সাহায্যে রোগের একদম মূল থেকে টিস্যু কেটে বের করা (Excision Surgery) হয়। এতে রোগটি বারবার ফিরে আসার সম্ভাবনা কমে যায়।
অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাকটিভ ট্রিটমেন্ট (IVF/IUI/ICSI)
সার্জারি করার একটি বড় সাইড-এফেক্ট হলো, সিস্ট কাটার সময় কিছু সুস্থ ডিম্বাণুও নষ্ট হয়ে যায়। তাই যাদের ওভারিয়ান রিজার্ভ আগে থেকেই কম, তাদের ক্ষেত্রে বারবার সার্জারি না করে সরাসরি আইভিএফ (IVF) বা ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অত্যাধুনিক আইভিএফ পদ্ধতিতে ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ল্যাবে ভ্রূণ তৈরি করা হয়।
দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সুবিধা
এন্ডোমেট্রিওসিস একটি প্রগ্রেসিভ রোগ, অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি খারাপ হতে থাকে। একে শুরুতে অবহেলা করলে পরবর্তীতে তা পেলভিক অঙ্গগুলোকে একে অপরের সঙ্গে আঠার মতো জুড়ে দেয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় “ফ্রোজেন পেলভিস” বলা হয়।
উন্নত প্রজনন ফলাফল
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি ধরা পড়লে ওভারি এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবগুলো বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। সঠিক সময়ে আইভিএফ বা সামান্য মেডিক্যাল সহায়তায় গর্ভধারণের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে এবং উন্নত মানের ডিম্বাণু পাওয়া যায়।
দীর্ঘমেয়াদী উন্নত প্রজনন স্বাস্থ্য
দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। এটি অন্যান্য মানসিক চাপ এবং রিলেশনশিপের সমস্যাগুলোকেও দূরে রাখে, যা সাধারণত ক্রনিক পেলভিক পেইনের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস
দেরি করলে বারবার সার্জারি করার প্রয়োজন হতে পারে, যা ডিম্বাশয়কে সময়ের আগেই বিকল করে দিতে পারে (Premature Ovarian Failure)। দ্রুত রোগ নির্ণয় হলে একটোপিক প্রেগনেন্সি (টিউবে ভ্রূণ আটকে যাওয়া) এবং অতিরিক্ত রক্তপাতের মতো মারাত্মক জটিলতাগুলো এড়ানো সম্ভব হয়।
কলকাতায় এন্ডোমেট্রিওসিস চিকিৎসার জন্য কেন বিড়লা ফার্টিলিটি বেছে নেবেন?
এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো জটিল রোগের জন্য কেবল একজন সাধারণ গাইনোকোলজিস্ট যথেষ্ট নন; এর জন্য প্রয়োজন ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ, অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন এবং এমব্রায়োলজিস্টদের একটি সম্মিলিত টিম। বিড়লা ফার্টিলিটি সেই মাল্টিডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচ বা সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাই প্রদান করে।
অভিজ্ঞ ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ
এখানকার চিকিৎসক মণ্ডলী রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রিনোলজিতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। তাঁরা জানেন ঠিক কখন সার্জারি প্রয়োজন এবং কখন সার্জারি এড়িয়ে ডিম্বাণু সংরক্ষণে জোর দিতে হবে, যাতে রোগীর মাতৃত্বের সুযোগ কোনোভাবেই নষ্ট না হয়।
উন্নত ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি
সঠিক চিকিৎসার জন্য নিখুঁত ম্যাপিং প্রয়োজন। বিড়লা ফার্টিলিটিতে 3D আল্ট্রাসাউন্ড এবং অত্যন্ত নিখুঁত হরমোনাল ল্যাব রয়েছে, যা রোগের স্টেজ বুঝতে চিকিৎসকদের সাহায্য করে।
প্রমাণ-ভিত্তিক চিকিৎসা প্রোটোকল
এখানে কোনো অনুমাননির্ভর চিকিৎসা হয় না। রোগীর এএমএইচ লেভেল, সিস্টের সাইজ এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ এভিডেন্স-বেসড আন্তর্জাতিক গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা করা হয়।
অত্যাধুনিক আইভিএফ ল্যাবরেটরি
এন্ডোমেট্রিওসিস রোগীদের ডিম্বাণুর কোয়ালিটি সাধারণত দুর্বল হয়। এখানকার ক্লাস-১০০ ক্লিনরুম এবং অ্যাডভান্সড ইনকিউবেটর ব্যবস্থা সেই দুর্বল ডিম্বাণু থেকেও সফলভাবে সুস্থ ভ্রূণ তৈরি এবং তা ব্লাস্টোসিস্ট স্টেজ পর্যন্ত বড় করার আদর্শ পরিবেশ প্রদান করে।
ব্যক্তিগতকৃত ফার্টিলিটি যত্ন
প্রতিটি নারীর শরীরের গঠন এবং সহনশীলতা আলাদা। তাই বিড়লা ফার্টিলিটিতে একটি টেমপ্লেট সবার ওপর চাপিয়ে না দিয়ে, রোগীর নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সম্পূর্ণ কাস্টমাইজড চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
আপনার কনসালটেশনের জন্য প্রস্তুতি
বিশেষজ্ঞের সঙ্গে প্রথম দেখা করার দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তার আপনার শরীরের বর্তমান অবস্থা যত ভালোভাবে বুঝবেন, চিকিৎসার রোডম্যাপ তৈরি করা ততটাই সহজ হবে। তাই নিজের সমস্ত দ্বিধা সরিয়ে রেখে মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে ক্লিনিকে যাওয়া উচিত।
যে মেডিক্যাল রেকর্ডগুলি সঙ্গে আনবেন
এর আগে যদি আপনি ব্যথার জন্য কোনো চিকিৎসা নিয়ে থাকেন, তার প্রেসক্রিপশন অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন। অতীতে কোনো সিস্ট বা অ্যাপেন্ডিক্সের অপারেশন হয়ে থাকলে তার ডিসচার্জ সামারি এবং সার্জিক্যাল নোটস ডাক্তারকে দেখতে দিন।
আপনার যে ডায়াগনস্টিক রিপোর্টগুলির প্রয়োজন হতে পারে
আপনার আগের করা সমস্ত পেলভিক আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্ট, এমআরআই এবং রক্ত পরীক্ষার (বিশেষত AMH এবং থাইরয়েড) পুরোনো ও নতুন রিপোর্টগুলো তারিখ অনুযায়ী সাজিয়ে একটি ফাইলে নিয়ে যান। এতে অনেক অপ্রয়োজনীয় টেস্টের খরচ ও সময় বাঁচে।
আপনার ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞকে যে প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করবেন
ক্লিনিকে গিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন। জিজ্ঞেস করুন, “আমার ওভারিয়ান রিজার্ভ কেমন আছে?”, “ল্যাপারোস্কোপি করলে আমার ডিম্বাণুর সংখ্যা কমে যাবে কি?”, অথবা “আমার ক্ষেত্রে সরাসরি আইভিএফ করা কি বেশি সুরক্ষিত বিকল্প হবে?”—এই প্রশ্নগুলো আপনার চিকিৎসার দিকনির্দেশ বুঝতে সাহায্য করবে।
বিরলা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ-এ রোগীদের অভিজ্ঞতা, কলকাতা
Top IVF Centers in Popular Cities
- IVF Center in Delhi
- IVF Center in New Town Kolkata
- IVF Center in Gurgaon
- IVF Center in Rewari
- IVF Center in Lucknow
- IVF Center in Varanasi
- IVF Center in Gorakhpur
- IVF Center in Noida
- IVF Center in Prayagraj
- IVF Center in Meerut
- IVF Center in Kolkata
- IVF Center in Howrah
- IVF Center in Bhubaneswar
- IVF Center in Cuttack
- IVF Center in Surat
- IVF Center in Ahmedabad
- IVF Center in Ranchi
- IVF Center in Chandigarh
- IVF Center in Guwahati
- IVF Center in Raipur
- IVF Center in Jaipur
- IVF Center in Nagpur
- IVF Center in Hyderabad
- IVF Center in Indore
- IVF Center in Bhopal
- IVF Center in Kozhikode
- IVF Center in Kannur
- IVF Center in Mangalore
- IVF Center in Palakkad
- IVF Center in Salem
- IVF Center in Thrissur
- IVF Center in Bangalore
- IVF Center in Kolar
- IVF Center in Mumbai
- IVF Center in Vijayapura
- IVF Center in Chennai
- IVF Center in Patna
- IVF Center in Perinthalmanna
- IVF Center in Siliguri
- IVF Center in Gachibowli