Trust img
Select City

সার্ভিকাল ক্যান্সার ট্রিটমেন্ট ইন কলকাতা

একজন মহিলা যখন প্রথমবার "সার্ভিকাল ক্যান্সার" শব্দটা শোনেন, তখন মনের মধ্যে একটা অস্বস্তি কাজ করে। এটা স্বাভাবিক। ক্যান্সার শব্দটার সঙ্গেই ভয়, দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তা জড়িয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সার্ভিকাল ক্যান্সার এমন একটা ক্যান্সার যেটা আগেভাগে ধরা পড়লে প্রায় সম্পূর্ণভাবে সারিয়ে তোলা যায়। এমনকি প্রজনন ক্ষমতা রক্ষা করেও চিকিৎসা করা সম্ভব, যদি সময়মতো ডাক্তারের কাছে যাওয়া হয়। বিশেষ করে শহুরে অঞ্চলে, নারীরা এখন প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। তবে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর যেকোনো রোগীর মনেই সবচেয়ে বড় যে ভয়টি কাজ করে, তা হলো ভবিষ্যতের মাতৃত্বের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা। আধুনিক প্রজনন বিজ্ঞানের সাহায্যে আজ ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি উর্বরতা সংরক্ষণের দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা রোগীদের এক নতুন আশা জোগাচ্ছে।

বিড়লা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ, কলকাতায় সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার চিকিৎসার ধাপসমূহ

পুরো যাত্রার শুরু হয় গাইনোকোলজিক অনকোলজিস্ট এবং ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে একটি বিস্তারিত কনসালটেশনের মাধ্যমে। এখানে চিকিৎসার সব বিকল্প রোগীর সামনে তুলে ধরা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া হয়।

সার্ভিকাল ক্যান্সার কী?

সার্ভিক্স হলো জরায়ুর নিচের সরু অংশ, যেটা যোনির সঙ্গে জরায়ুকে সংযুক্ত করে। যখন এই অংশের কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বিভাজিত হতে থাকে, তখন সেটাকে সার্ভিকাল ক্যান্সার বলা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর পেছনে থাকে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস, সংক্ষেপে HPV। এই ভাইরাস দীর্ঘদিন শরীরে থেকে গেলে ধীরে ধীরে সার্ভিক্সের কোষে পরিবর্তন আনে।

HPV সংক্রমণ হওয়া মানেই ক্যান্সার হবে, এমন নয়। বেশিরভাগ মহিলার শরীর নিজে থেকেই এই ভাইরাস প্রতিরোধ করে ফেলে।

প্রজনন ক্ষমতা ও রিপ্রোডাক্টিভ স্বাস্থ্যে এর প্রভাব

এখানেই বিষয়টা ফার্টিলিটি চিকিৎসার সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে যায়। সার্ভিক্স শুধু একটা শারীরবৃত্তীয় অংশ নয়, এটা গর্ভধারণ প্রক্রিয়ার একদম কেন্দ্রে থাকে। শুক্রাণু জরায়ুতে প্রবেশের পথ এই সার্ভিক্স দিয়েই যায়, এবং গর্ভাবস্থায় এটাই ভ্রূণকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। সার্ভিকাল ক্যান্সারের চিকিৎসায় প্রায়ই সার্জারি বা রেডিয়েশন প্রয়োজন হয়, যেটা সার্ভিক্সের গঠন বা কার্যক্ষমতা প্রভাবিত করতে পারে। তাই যে মহিলারা এখনও সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে ফার্টিলিটি-প্রিজার্ভিং ট্রিটমেন্ট অপশন খুঁজে বের করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সার্ভিকাল ক্যান্সারের লক্ষণ

ব্রেস্ট ক্যান্সারের মতো জরায়ুমুখের ক্যান্সার বাইরে থেকে লাম্প হিসেবে অনুভব করা যায় না। শুরুর দিকে এই রোগের প্রায় কোনো উপসর্গই থাকে না, যা একে একটি “নীরব ঘাতক” করে তোলে। তবে রোগটি একটু অগ্রসর হলেই শরীর কিছু নির্দিষ্ট সংকেত দিতে শুরু করে যা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

সাধারণ লক্ষণসমূহ

সার্ভিকাল ক্যান্সারের লক্ষণ চিনতে পারা অনেকটা সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায়ই কোনো লক্ষণ থাকে না, যা এই রোগের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক। যখন লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে, তখন নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য করা যায়।

  • মাসিক চক্রের বাইরে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ
  • মেনোপজের পরে রক্তক্ষরণ
  • সহবাসের পর রক্তক্ষরণ বা ব্যথা
  • অস্বাভাবিক যোনিস্রাব, যাতে দুর্গন্ধ থাকতে পারে
  • পেলভিক অঞ্চলে ব্যথা যা মাসিকের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়
  • ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন বা প্রস্রাবে অস্বস্তি

কখন একজন ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন?

কোন সময়ে ডাক্তার দেখানো উচিত, এই প্রশ্নের উত্তর অনেকেই দেরি করে খোঁজেন। অথচ সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই পুরো চিকিৎসার ফলাফল বদলে দিতে পারে।

উপরের যেকোনো লক্ষণ যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, ডাক্তার দেখানো উচিত। বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য দ্রুত মূল্যায়ন জরুরি।

কারণ ও ঝুঁকির কারণসমূহ

কোন কারণে এই রোগ হয় তা জানলে প্রতিরোধ করা সহজ হয়। 

সাধারণ কারণ

সার্ভিকাল ক্যান্সারের কারণ নিয়ে বিভ্রান্তি অনেক মহিলার মধ্যেই দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটা নির্দিষ্ট ভাইরাসকে দায়ী করা যায়, তবে সেটাই একমাত্র কারণ নয়। নিচে মূল কারণগুলো ব্যাখ্যা করা হলো।

প্রায় ৯৫ শতাংশ সার্ভিকাল ক্যান্সারের ক্ষেত্রে HPV সংক্রমণ মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। এই ভাইরাস মূলত যৌন সংসর্গের মাধ্যমে ছড়ায়। দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ, ধূমপান, এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

ঝুঁকি বাড়ায় এমন বিষয়সমূহ

কিছু অভ্যাস বা শারীরিক অবস্থা এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এগুলো জানা থাকলে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা সহজ হয়। নিচে এই বিষয়গুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো।

ঝুঁকির কারণ ব্যাখ্যা
একাধিক যৌন সঙ্গী HPV সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ায়
অল্প বয়সে যৌন সম্পর্ক শুরু সার্ভিক্সের কোষ তখনও পরিপক্ব থাকে না
ধূমপান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়
দীর্ঘমেয়াদী গর্ভনিরোধক ব্যবহার কিছু গবেষণায় সামান্য ঝুঁকি বৃদ্ধির ইঙ্গিত মেলে
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা HIV বা অন্য কোনো কারণে
নিয়মিত স্ক্রিনিং না করানো প্রি-ক্যান্সারাস পরিবর্তন ধরা পড়ে না

এই তালিকা দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এগুলো ঝুঁকির কারণ, নিশ্চিত পরিণতি নয়।

সার্ভিকাল ক্যান্সারের নির্ণয়

ক্যান্সারের চিকিৎসা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করে রোগ নির্ণয়ের সূক্ষ্মতা এবং দ্রুততার ওপর। আধুনিক ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তির ফলে এখন ক্যান্সারের একদম শুরুর স্টেজ বা প্রিক্যান্সারাস স্টেজ নিখুঁতভাবে ধরে ফেলা সম্ভব।

শারীরিক পরীক্ষা

চিকিৎসার প্রথম ধাপ শুরু হয় সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। এতে সার্ভিক্সের বাহ্যিক অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। প্রথম ধাপে সাধারণত পেলভিক পরীক্ষা করা হয়, যেখানে ডাক্তার সার্ভিক্সের অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। এই পরীক্ষা অস্বস্তিকর হতে পারে, তবে সাধারণত ব্যথাদায়ক নয়।

ডায়াগনস্টিক টেস্ট

সঠিক নির্ণয়ের জন্য বেশ কয়েকটা টেস্ট প্রয়োজন হয়| সাধারণত প্যাপ স্মিয়ার (Pap Smear) এবং এইচপিভি ডিএনএ (HPV DNA) টেস্টের মাধ্যমে জরায়ুমুখের কোষের অস্বাভাবিকতা যাচাই করা হয়। এই টেস্টগুলোতে সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়লে, কলপোস্কোপি (Colposcopy) বা বায়োপসির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হয় ক্যান্সারটি ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া ক্যান্সারের ব্যাপ্তি বুঝতে অনেক সময় এমআরআই বা পেট স্ক্যানও (PET Scan) করা হয়।

ফার্টিলিটি মূল্যায়ন

যাদের সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা আছে, তাদের জন্য ডায়াগনসিসের সঙ্গে সঙ্গে একটা ফার্টিলিটি মূল্যায়নও করা উচিত। এতে ওভারিয়ান রিজার্ভ টেস্টিং এবং প্রয়োজনে ফার্টিলিটি প্রিজার্ভেশনের বিকল্প নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

কলকাতায় সার্ভিকাল ক্যান্সার

কলকাতায় এই রোগের চিকিৎসা সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধা এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত। কলকাতায় সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের চিকিৎসা আজ আর শুধু রোগীর জীবন বাঁচানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং চিকিৎসার পর রোগীর জীবনের গুণমান এবং মাতৃত্বের স্বপ্ন ধরে রাখার দিকেও সমান নজর দেওয়া হয়।

চিকিৎসার বিকল্পসমূহ

ক্যান্সারের স্টেজ, টিউমারের আকার এবং রোগীর বয়সের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসার ধরন নির্ধারিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু অস্বাভাবিক কোষগুলো বাদ দিলেই কাজ হয়, কিন্তু অ্যাডভান্সড স্টেজে অনেক বেশি আগ্রাসী পদ্ধতির প্রয়োজন পড়ে। চিকিৎসকরা সাধারণত একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি পদ্ধতি গ্রহণ করেন।

মেডিকেল ম্যানেজমেন্ট

প্রাথমিক বা প্রিক্যান্সারাস পর্যায়ের ক্যান্সারের জন্য ক্রায়োসার্জারি (Cryosurgery) বা লেজার সার্জারির মাধ্যমে অস্বাভাবিক কোষগুলোকে জমিয়ে বা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অনেক সময় LEEP (লুপ ইলেকট্রোসার্জিক্যাল এক্সিশন প্রসিডিওর) ব্যবহার করে একটি বৈদ্যতিক তারের মাধ্যমে আক্রান্ত টিস্যু অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বাদ দেওয়া হয়, যাতে আশেপাশের সুস্থ কোষের ক্ষতি না হয়।

মিনিমালি ইনভেসিভ প্রসিডিওর

যদি ক্যান্সার একটু গভীরে প্রবেশ করে, কিন্তু রোগী ভবিষ্যতে মা হতে চান, তখন ট্র্যাকেলেকটমি (Trachelectomy) নামক একটি বিশেষ সার্জারি করা হয়। এই পদ্ধতিতে জরায়ুকে সম্পূর্ণ অক্ষত রেখে শুধু সার্ভিক্স এবং তার আশেপাশের কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়। এটি অল্পবয়সী নারীদের ফার্টিলিটি সংরক্ষণের জন্য একটি যুগান্তকারী সার্জিক্যাল পদ্ধতি।

অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ ট্রিটমেন্ট

অ্যাডভান্সড ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন অনিবার্য হলে ডিম্বাশয় তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই চরম পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আধুনিক বিজ্ঞান আইভিএফ (IVF) বা এগ ফ্রিজিংয়ের সুবিধা নিয়ে এসেছে।

মূল ক্যান্সার চিকিৎসা শুরু করার আগেই অ্যাডভান্সড ল্যাবে রোগীর ডিম্বাণু বা ভ্রূণ সংরক্ষণ (Freezing) করে রাখা হয়। ক্যান্সার থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার পর সেই সংরক্ষিত ভ্রূণের সাহায্যে আইভিএফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীরা মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন। পদ্ধতি ও প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কলকাতায় সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার চিকিৎসার খরচ আলাদা হতে পারে, তবে উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কারণে এটি এখন অনেকেরই নাগালের মধ্যে।

চিকিৎসার জন্য কেন বেছে নেবেন বিরলা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ? কলকাতা

পরিবার গঠনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সঠিক ফার্টিলিটি ক্লিনিক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Birla Fertility & IVF-এ আমরা ব্যক্তিগতকৃত (Personalized Care) চিকিৎসা পরিষেবার মাধ্যমে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ধাপে আপনাকে সহায়তা করি। আমাদের অত্যাধুনিক ল্যাব, উন্নত প্রযুক্তি এবং উচ্চ সাফল্যের হারের ফলে ২,৩০,০০০-এরও বেশি রোগীকে অভিভাবক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছি।

দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সুবিধা

যেকোনো অনকোলজিক্যাল সমস্যার ক্ষেত্রেই সময়মতো চিকিৎসা শুরু করাটা সবচেয়ে বড় গেম-চেঞ্জার। সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার যেহেতু খুব ধীরে ছড়ায়, তাই প্রাথমিক বা লোকাল পর্যায়ে এটি ধরা পড়লে নিরাময়ের হার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

উন্নত ফার্টিলিটি ফলাফল

সার্ভিকাল ক্যান্সার যত আগে ধরা পড়ে, ফার্টিলিটি-প্রিজার্ভিং চিকিৎসার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। দেরিতে ধরা পড়লে ব্যাপক সার্জারি বা রেডিয়েশনের প্রয়োজন হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী রিপ্রোডাক্টিভ স্বাস্থ্য

প্রাথমিক চিকিৎসা শুধু ক্যান্সার নিরাময় করে না, বরং হরমোনাল ভারসাম্য এবং জরায়ুর গঠনগত সুস্থতাও বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে ভবিষ্যতে গর্ভাবস্থা তুলনামূলকভাবে জটিলতামুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস

দেরিতে চিকিৎসা শুরু করলে ক্যান্সারের কোষগুলো জরায়ুর গণ্ডি পেরিয়ে পেলভিক টিস্যু, ব্লাডার, ফুসফুস বা লিভারে ছড়িয়ে পড়তে পারে (স্টেজ ফোর)। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব এবং শরীরকে বড়সড় সার্জারি বা রেডিয়েশনের মারাত্মক ধকল সইতে হয় না।

কলকাতায় সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কেন বিড়লা ফার্টিলিটি বেছে নেবেন?

একটি নির্ভরযোগ্য এবং অত্যাধুনিক ক্লিনিক নির্বাচন করা আপনার পুরো চিকিৎসা যাত্রার সাফল্যের চাবিকাঠি। কলকাতার বুকে বিড়লা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা অনকোলজি এবং ফার্টিলিটি কেয়ারের এক অসাধারণ মেলবন্ধন তৈরি করেছে।

অভিজ্ঞ ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ

এখানকার অ্যান্ডরোলজিস্ট, গাইনোকোলজিস্ট এবং ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিনের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অত্যন্ত জটিল কেসগুলো সুনিপুণভাবে পরিচালনা করেন। তাঁরা রোগীর মেডিক্যাল অবস্থার পাশাপাশি মানসিক অবস্থা বুঝে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল যত্ন প্রদান করেন।

উন্নত ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি

ক্যান্সার ঠিক কতটা ছড়িয়েছে তা বুঝতে প্যাপ স্মিয়ার, এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট থেকে শুরু করে কলপোস্কোপি বা বায়োপসির সুবিধা এখানে এক ছাদের নিচেই রয়েছে। নিখুঁত এবং দ্রুত রিপোর্ট একটি সফল চিকিৎসার প্রধান ভিত্তি, যা এই ক্লিনিকে নিশ্চিত করা হয়।

প্রমাণ-ভিত্তিক চিকিৎসা প্রোটোকল

বিড়লা ফার্টিলিটিতে কোনো সাময়িক ট্রেন্ড বা অনুমানভিত্তিক চিকিৎসা হয় না। প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এভিডেন্স-বেসড (Evidence-based) প্রোটোকল মেনে, যা রোগীর সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে জরুরি।

অত্যাধুনিক আইভিএফ ল্যাবরেটরি

ডিম্বাণু বা ভ্রূণ দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের জন্য যে দূর্ষণমুক্ত এবং বিশ্বমানের পরিবেশ প্রয়োজন, তা এখানকার অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে রয়েছে। এখানে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ুর মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যাতে ভ্রূণ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।

ব্যক্তিগতকৃত ফার্টিলিটি যত্ন

প্রত্যেক রোগীর শারীরিক গঠন, হরমোনাল স্তর এবং ক্যান্সারের স্টেজ আলাদা। তাই এখানে কোনো সাধারণ টেমপ্লেট ব্যবহার করা হয় না, বরং প্রতিটি রোগীর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা করে একটি কাস্টমাইজড চিকিৎসার রোডম্যাপ তৈরি করা হয়।

আপনার কনসালটেশনের জন্য প্রস্তুতি

ক্যান্সার বা ফার্টিলিটি সংক্রান্ত বিষয়ে ডাক্তারের চেম্বারে প্রথম দিনটি স্বাভাবিকভাবেই বেশ উদ্বেগের হতে পারে। তবে বাড়ি থেকে সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে গেলে ডাক্তার আপনার বর্তমান অবস্থা খুব দ্রুত বুঝতে পারেন এবং সময় বাঁচে।

যে মেডিক্যাল রেকর্ডগুলি সঙ্গে আনবেন

আপনার অতীতের যেকোনো গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যা, মাসিক চক্রের হিস্ট্রি এবং পরিবারের কারো ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে তার সমস্ত বিবরণ একটি ফাইলে গুছিয়ে নিয়ে যান। অতীতে কোনো বড় ধরনের পেলভিক সার্জারি হয়ে থাকলে তার ডিসচার্জ সামারিও সঙ্গে রাখা উচিত।

আপনার যে ডায়াগনস্টিক রিপোর্টগুলির প্রয়োজন হতে পারে

সম্প্রতি করা কোনো প্যাপ স্মিয়ার, ব্লাড টেস্ট (যেমন AMH বা থাইরয়েড) বা আল্ট্রাসাউন্ডের রিপোর্ট থাকলে তা অবশ্যই সাথে রাখবেন। এতে চিকিৎসকের পক্ষে বর্তমান অবস্থা বুঝতে সুবিধা হয় এবং অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় টেস্টের পুনরাবৃত্তি এড়ানো যায়।

আপনার ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞকে যে প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করবেন

ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে নিজের প্রশ্নগুলো লিখে রাখুন। আপনার ক্যান্সার কোন স্টেজে আছে, মূল চিকিৎসা চলাকালীন এগ ফ্রিজিং করা সম্ভব কি না, এবং এই সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার সাফল্যের হার কত, তা নির্দ্বিধায় আলোচনা করে নিন।

বিরলা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ-এ রোগীদের অভিজ্ঞতা, কলকাতা