Trust img
Select City
পিরিয়ড তাড়াতাড়ি আনার উপায় ও দেরিতে হওয়ার কারণ

পিরিয়ড তাড়াতাড়ি আনার উপায় ও দেরিতে হওয়ার কারণ

doctor image
Dr. Prachi Benara

MBBS (Gold Medalist), MS (OBG), DNB (OBG), PG Diploma in Reproductive and Sexual health

16 Years of experience

বন্ধুর বিয়েবাড়ি, দূরের ট্রিপ, কিংবা বড় একটা পুজোর দিন, আর ঠিক তখনই সম্ভাব্য পিরিয়ডের তারিখ। তখন অনেকেই ভাবেন, পিরিয়ডটা একটু আগে এসে গেলে ভালো হতো। আবার উল্টো ছবিও আছে। তারিখ পেরিয়ে গেছে, অথচ কোনো খবর নেই, আর মনে হাজারটা প্রশ্ন। দুটোই খুব চেনা পরিস্থিতি।

পিরিয়ড সময়মতো না হওয়ার পেছনে হরমোনের তারতম্য, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন থেকে শুরু করে বিভিন্ন শারীরিক কারণ বিদ্যমান থাকতে পারে। এই প্রতিবেদনে পিরিয়ড দ্রুত আনার সাময়িক পদ্ধতি ও ঘরোয়া ব্যবস্থার কার্যকারিতা, পিরিয়ড দেরিতে হওয়ার প্রধান কারণসমূহ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের সঠিক সময় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

দেরিতে পিরিয়ড হওয়ার সম্ভাব্য কারণ কী?

আগে কারণটা বোঝা দরকার, কারণ তাহলেই ঠিক রাস্তা বেছে নেওয়া যায়।অনিয়মিত পিরিয়ড-এর পেছনে সাধারণত এই কারণগুলো থাকে:

  • গর্ভাবস্থা: যৌনজীবন সক্রিয় থাকলে পিরিয়ড দেরির প্রথম সন্দেহ এটাই।
  • মানসিক চাপ: দুশ্চিন্তা, পরীক্ষা বা কাজের চাপে মস্তিষ্ক হরমোনের সংকেত বদলে দেয়, তখন ডিম্বস্ফোটন পিছিয়ে যায়।
  • হঠাৎ ওজন বাড়া বা কমা, কিংবা খুব কড়া ডায়েট।
  • পিসিওএস: ডিম্বস্ফোটন অনিয়মিত হওয়ায় পিরিয়ড অনেক সময় দু-তিন মাস পর পর আসে।
  • থাইরয়েডের গোলমাল:টিএসএইচ বেশি বা কম থাকলে চক্র এলোমেলো হয়ে যায়।
  • হাইপারপ্রোল্যাক্টিনিমিয়া বা প্রোল্যাক্টিন হরমোন বেড়ে যাওয়া।
  • অতিরিক্ত ব্যায়াম, ঘুমের অনিয়ম বা হঠাৎ জায়গা বদল।
  • স্তন্যপান, গর্ভনিরোধক বা কিছু ওষুধ।
  • বয়স চল্লিশের কাছাকাছি হলেমেনোপজের আগের ধাপ।

একটা বা দুটো পিরিয়ড দেরি হলে অনেক সময় সাময়িক কারণ থাকে। কিন্তু বারবার হলে শরীরের ভেতরেরহরমোনের ভারসাম্যহীনতা ধরা পড়ে।

পিরিয়ড তাড়াতাড়ি আনার ওষুধ

পিরিয়ড এগিয়ে আনার ওষুধ আছে, সাধারণত প্রোজেস্টেরন-জাতীয় হরমোনের বড়ি। কিন্তু সোজা কথা, এটা ওষুধের দোকানে গিয়ে নিজে কিনে খাওয়ার জিনিস নয়।

কারণ আছে। আপনি গর্ভবতী কিনা না জেনে এই ওষুধ খেলে ঝুঁকি তৈরি হয়। রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস, লিভারের সমস্যা বা মাইগ্রেন থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই ডাক্তার সাধারণত আগে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করান, তারপর কোন ওষুধ, কতদিন, সেটা ঠিক করেন। বমি ভাব, মাথাব্যথা, স্তনে ব্যথা বা পেট ফাঁপা হতে পারে। ওষুধ বন্ধের কয়েক দিনের মধ্যে রক্তপাত শুরু হয়।

আর একটা কথা। এই ওষুধ সমস্যার সমাধান নয়, সাময়িক ব্যবস্থা। পিরিয়ড বারবার দেরি হলে আসল কারণটা খুঁজে বের করাই দরকার।

পিরিয়ডের জন্য ব্যায়াম

সত্যি বলতে, এমন কোনও ব্যায়াম নেই যা জোর করে পিরিয়ড এনে দিতে পারে। তবে হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম পরোক্ষে কাজে লাগে। হাঁটা, যোগাসন, সাইকেল চালানো বা হালকা জগিং মানসিক চাপ কমায়, রক্ত চলাচল বাড়ায়, আর চক্র নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে।

উল্টোদিকটাও মনে রাখুন। অতিরিক্ত বা খুব কড়া ব্যায়াম শরীরের চর্বি কমিয়ে হরমোন বিগড়ে দেয়, ফলে পিরিয়ড আরও দেরি হয়। ব্যায়াম আর প্রজননক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত পাবেনব্যায়াম ও ফার্টিলিটির এই লেখায়। রোজ ত্রিশ মিনিট হাঁটাই আপাতত যথেষ্ট।

পিরিয়ড তাড়াতাড়ি আনার ঘরোয়া উপায়

শুরুতেই পরিষ্কার করে বলি: যে ঘরোয়া টোটকা নিশ্চিতভাবে পিরিয়ড এনে দেয়, তার কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ইন্টারনেটে আদা চা, গুড়, পেঁপে, পার্সলে, সেলারি আর ভিটামিন সি নিয়ে অনেক দাবি ঘোরে। এগুলোর বেশির ভাগই লোকমুখের কথা, বিজ্ঞানের নয়।

তাহলে কী করবেন?

  • আদা চা বা গুড় সাধারণ পরিমাণে খেতে দোষ নেই, আরাম লাগলে খান। কিন্তু এতে পিরিয়ড আসবেই, এমন ভরসা করবেন না।
  • গর্ভাবস্থার সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও কাঁচা পেঁপে বা বেশি পরিমাণে কোনও কিছু খাবেন না।
  • তলপেটে হালকা গরম সেঁক ব্যথা কমায়, কিন্তু পিরিয়ড এগোয় না।
  • বরং নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার আর চাপ কমানোর দিকে নজর দিন। সুস্থ জীবন যাপন যাপনের জন্য পিসিওডি-র খাবার যে পরামর্শ আছে, সেটা মেনে চলুন।

একটা জিনিস মাথায় রাখুন। কোনও কিছু খেয়েই পিরিয়ড না এলে সেটা আপনার ব্যর্থতা নয়। শরীর হয়তো অন্য কোনও কারণে সময় নিচ্ছে।

এক মাস পিরিয়ড না হলে কী করবেন?

ঘাবড়ে যাওয়ার দরকার নেই, কিন্তু অবহেলাও নয়। ধাপে ধাপে ভাবুন:

  1. প্রথমে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করুন। সকালের প্রথম প্রস্রাবে করলে ফল ভালো আসে। নেগেটিভ এলে আর পিরিয়ড না এলে তিন-পাঁচ দিন পর আবার করুন।
  2. নিজেকে প্রশ্ন করুন, এই মাসে কি অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে? চাপ, অসুখ, ওজন বদল, ভ্রমণ, নতুন ওষুধ?
  3. চক্রের তারিখ আর লক্ষণ একটা খাতায় বা ফোনে লিখে রাখুন।
  4. টানা তিন মাস পিরিয়ড বন্ধ থাকলে, একে বলেঅ্যামেনোরিয়া, ডাক্তার দেখাতেই হবে।

এর আগেও দেখাতে পারেন, যদি সঙ্গে তীব্র তলপেটের ব্যথা, অতিরিক্ত চুল ওঠা বা গজানো, দুধের মতো স্তন্যস্রাব বা হঠাৎ ওজন বদল থাকে।

পিরিয়ড ক্যালকুলেটরে পরের পিরিয়ডের তারিখ কীভাবে জানবেন?

পিরিয়ড ক্যালকুলেটর আসলে একটা সহজ হিসাবের ওপর দাঁড়িয়ে। আপনার শুধু দুটো তথ্য লাগবে: শেষ পিরিয়ডের প্রথম দিন, আর আপনার গড় চক্রের দৈর্ঘ্য। স্বাভাবিক চক্র ২১ থেকে ৩৫ দিনের, গড়ে ২৮ দিন।

উদাহরণ দিই। ধরুন শেষ পিরিয়ড শুরু হয়েছিল ১০ অক্টোবর, আর আপনার চক্র ২৮ দিনের। তাহলে পরের পিরিয়ড আসার কথা ৭ নভেম্বর। ডিম্বস্ফোটন হয় পিরিয়ডের প্রায় ১৪ দিন আগে, মানে ২৪ অক্টোবরের আশপাশে।

এই হিসাব পুরোপুরি নিখুঁত নয়, বিশেষ করে মাসিক চক্র অনিয়মিত হলে। তাই অন্তত তিন-চার মাসের তারিখ লিখে রাখুন, গড়টা তখন আরও ভরসাযোগ্য হয়।

পিরিয়ডের কতদিন পর গর্ভধারণ হতে পারে?

এই প্রশ্ন অনেকেই করেন, আর উত্তরটা অনেকের কাছে অবাক করার মতো। পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরেও গর্ভধারণ হতে পারে। কারণ শুক্রাণু মহিলার শরীরে পাঁচ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ফলে ডিম্বস্ফোটনের কয়েক দিন আগের সহবাসেও গর্ভধারণ সম্ভব।

২৮ দিনের চক্রে সবচেয়ে উর্বর সময় মোটামুটি ১০ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে। চক্র ছোট হলে ঝুঁকির দিন আরও এগিয়ে আসে। পিরিয়ড শেষের ঠিক পরের দিনগুলোতেও তাই নিশ্চিন্ত থাকা যায় না।

প্রশ্ন 

দিনের মধ্যে কীভাবে পিরিয়ড আনবেন?

এমন কোনও নিরাপদ উপায় নেই। শরীর নিজের সময়ে চলে। পিরিয়ডের ডেট কাছে হলে বিশ্রাম নিন, চাপ কমান, আর দরকার পড়লে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ নিন।

এখনই পিরিয়ড পেতে কী করবেন?

তাৎক্ষণিক কিছু করার নেই। আগে গর্ভাবস্থা বাদ দিন, তারপর ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। নিজে ওষুধ বা বেশি পরিমাণ টোটকা খাবেন না।

সেলারি দিয়ে কি পিরিয়ড তাড়াতাড়ি আনা যায়?

এর কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সাধারণ পরিমাণ খাবারে হিসেবে খেতে বাধা নেই, কিন্তু গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা থাকলে বেশি পরিমাণে খাবেন না।

পিরিয়ড তাড়াতাড়ি আনতে কোন ব্যায়াম করবেন?

হাঁটা, যোগাসন, হালকা জগিং বা সাইকেল। এগুলো চাপ কমিয়ে চক্র নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে, কিন্তু কোনওটাই পিরিয়ড আনার গ্যারান্টি দেয় না।

পিরিয়ড দেরি হলে কি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা উচিত?

হ্যাঁ, যৌনজীবন সক্রিয় থাকলে অবশ্যই। পিরিয়ড মিস হওয়ার দিন বা তার পরে করলে ফল সবচেয়ে নির্ভুল হয়। নেগেটিভ এলে কয়েক দিন পর আবার করুন।

পিরিয়ড তাড়াতাড়ি আনার ওষুধ কি নিরাপদ?

ডাক্তারের পরামর্শে, গর্ভাবস্থা বাদ দেওয়ার পরে নিলে সাধারণত নিরাপদ। নিজে থেকে নিলে ঝুঁকি আছে, বিশেষ করে রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস থাকলে।

পিসিওএস থাকলে পিরিয়ড দেরি হলে কী করবেন?

পিসিওএস-এ ডিম্বস্ফোটন অনিয়মিত হওয়াই এর মূল কারণ। ওজন নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম আর ডাক্তারের দেওয়া চিকিৎসা চক্র নিয়মিত করতে পারে।

To know more

Birla Fertility & IVF aims at transforming the future of fertility globally, through outstanding clinical outcomes, research, innovation and compassionate care.

Need Help?

Talk to our fertility experts

Had an IVF Failure?

Talk to our fertility experts