Trust img
Select City
গর্ভাবস্থায় পেলভিক ব্যথা: কারণ ও উপশম

গর্ভাবস্থায় পেলভিক ব্যথা: কারণ ও উপশম

doctor image
Dr. Amrutha C. V.

MBBS, DGO, DNB (Obstetrics & Gynaecology)

11+ Years of experience

গর্ভাবস্থায় শরীরে প্রতিদিনই নতুন কিছু বদল ঘটে। কখনও তলপেটে টান ধরে, কখনও কুঁচকির কাছে খচ করে ওঠে, আবার কখনও বিছানায় পাশ ফিরতে গিয়ে হাড়ের জোড়ে ব্যথা লাগে। এমন কিছু অনুভব করে দুশ্চিন্তায় পড়লে আপনি একা নন, বহু মায়েরই এই অভিজ্ঞতা হয়। তবে ব্যথাটা কেন হচ্ছে, কতটা সাধারণ আর কখন সতর্ক হতে হবে, সেটা জানা থাকলে মন অনেকটাই শান্ত থাকে। চলুন, সহজ ভাষায় সব কিছু বুঝে নিই।

গর্ভাবস্থায় পেলভিক ব্যথা কাকে বলে?

পেলভিস বা শ্রোণিচক্র হল কোমরের নিচের দিকে হাড়ের একটা বাটির মতো কাঠামো। এর ভিতরেই বসে থাকে জরায়ু, মূত্রথলি আর অন্ত্রের শেষ অংশ। নাভির নিচ থেকে শুরু করে দুই কোমরের হাড়ের মাঝখান, পিউবিক হাড়, কুঁচকি আর নিতম্বের পিছন দিক পর্যন্ত যে ব্যথা বা টান টান ভাব হয়, সেটাকেই বলা হয় পেলভিক পেইন।

ডাক্তারি ভাষায় গর্ভাবস্থার এই ব্যথার নাম পেলভিক গার্ডল পেইন (PGP)। আগে একে SPD বা সিমফাইসিস পিউবিস ডিসফাংশনও বলা হত। একটা কথা জেনে রাখা ভালো, ব্যথাটা সবসময় সামনে তলপেটে আটকে থাকে না। অনেকের ক্ষেত্রে এটা পিঠের নিচ থেকে ঊরু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে অনেকেই একে সাধারণ কোমর ব্যথা ভেবে বসেন।

গর্ভাবস্থায় পেলভিক ব্যথা কি স্বাভাবিক?

এক কথায় বললে, হ্যাঁ। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২০ শতাংশ গর্ভবতী নারী কোনো না কোনো সময়ে পেলভিক গার্ডল পেইনে ভোগেন। আর হালকা টান টান ভাব তো আরও অনেক বেশি মানুষের হয়।

একটু ভেবে দেখুন। মাত্র নয় মাসে আপনার জরায়ু ছোট্ট একটা নাশপাতির আকার থেকে বেড়ে প্রায় তরমুজের সমান হয়ে যায়। সেই ওজন সামলাতে গিয়ে পেলভিসের হাড়, পেশি আর লিগামেন্টকে অনেকটা মানিয়ে নিতে হয়। এই মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াতেই ব্যথা তৈরি হয়।

তবে স্বাভাবিক মানেই যে উপেক্ষা করার মতো, তা কিন্তু নয়। ব্যথা হঠাৎ তীব্র হলে, রক্তপাত বা জ্বরের সঙ্গে এলে, কিংবা নিয়মিত বিরতিতে ফিরে আসতে থাকলে সেটা আর সাধারণ অস্বস্তি থাকে না। কোন লক্ষণগুলোতে সতর্ক হতে হবে, সেটা নিচে আলাদা করে বলা আছে।

গর্ভাবস্থায় পেলভিক ব্যথার কারণ কী কী?

কারণগুলোকে মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একদল একেবারেই সাধারণ, গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক অংশ। আরেক দল তুলনায় কম দেখা যায়, কিন্তু সেগুলোর চিকিৎসা দরকার।

সাধারণ কারণ সমূহ

  • রিলাক্সিন হরমোন: প্রসবের প্রস্তুতিতে শরীর রিলাক্সিন নামে একটা হরমোন ছাড়ে, যা পেলভিসের জয়েন্ট আর লিগামেন্ট ঢিলে করে দেয়। জয়েন্ট ঢিলে হলেই সেখানে অস্থিরতা তৈরি হয় আর ব্যথা শুরু হয়।
  • রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন: জরায়ুকে ধরে রাখা লিগামেন্ট দুটো জরায়ু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টান খায়। হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে, হাঁচি দিলে বা পাশ ফিরলে কুঁচকিতে বিদ্যুতের মতো একটা খোঁচা লাগে।
  • বাড়তে থাকা জরায়ুর চাপ: বাচ্চার ওজন সরাসরি পেলভিক ফ্লোর, মূত্রথলি আর শিরার উপর চাপ ফেলে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাস: প্রোজেস্টেরন হরমোন হজম ধীর করে দেয়, তাই পেট ফাঁপে আর তলপেটে চাপ ব্যথা হয়। অনেকেই এটাকে গুরুতর কিছু ভেবে ঘাবড়ে যান।
  • ব্র্যাক্সটন হিকস সংকোচন: একে বলতে পারেন প্রসবের মহড়া। অনিয়মিত, অল্পক্ষণ স্থায়ী হয়, বিশ্রাম নিলে কমে যায়।
  • বাচ্চার মাথা নিচে নামা: শেষের দিকে বাচ্চার মাথা পেলভিসে বসে যায়, তখন হঠাৎ হঠাৎ তীব্র ব্যথা হতে পারে।

যেসব কারণে চিকিৎসা লাগে

  • মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI): প্রস্রাবে জ্বালা, বারবার প্রস্রাবের বেগ আর তলপেটে চাপ ব্যথা। গর্ভাবস্থায় এটা খুব সাধারণ, তবে ফেলে রাখলে কিডনিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • একটোপিক প্রেগন্যান্সি:একটোপিক প্রেগন্যান্সি বা ভ্রূণ জরায়ুর বাইরে এলে তীব্র ব্যথা হয়।
  • পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ: জ্বর, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব ও তলপেটে একটানা ব্যথা থাকলেপিআইডি বা পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ হতে পারে।
  • ডিম্বাশয়ের সিস্ট, ওভারিয়ান টর্শন, কিডনিতে পাথর বা অ্যাপেন্ডিসাইটিস: এক পাশে হঠাৎ মোচড়ানো বা অসহ্য ব্যথা হলে এগুলো মাথায় রাখতে হয়।
  • প্রিটার্ম লেবার বা প্লাসেন্টাল অ্যাব্রাপশন: নিয়মিত সংকোচন, রক্তপাত বা জল ভাঙার সঙ্গে ব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।

কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি একটু বেশি থাকে। যেমন আগে পেলভিসে চোট লেগে থাকলে, শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করলে, ওজন বেশি হলে, যমজ সন্তান থাকলে, কিংবা আগের গর্ভাবস্থাতেও একই ব্যথা হয়ে থাকলে।

প্রথম ত্রৈমাসিকে পেলভিক ব্যথা: এর মানে কী?

প্রথম ত্রৈমাসিকে (প্রথম ১২ সপ্তাহ) তলপেটে হালকা টান বা খিঁচুনি অনেকেরই হয়। এই সময় জরায়ু বাড়তে শুরু করে, রক্ত চলাচল বাড়ে এবং হরমোনের মাত্রা দ্রুত বদলায়। ফলেমাসিকের আগের মতো ব্যথা মনে হতে পারে। নিষেক-পরবর্তী ডিম্বাণু জরায়ুতে বসার সময়ও হালকা ব্যথা বা সামান্য দাগ দেখা যেতে পারে।

তবে এই সময়ে কিছু ব্যথা সতর্কসংকেতও হতে পারে:

  • তলপেটের এক পাশে তীব্র, ছুরি দিয়ে কাটার মতো ব্যথা, সঙ্গে মাথা ঘোরা বা কাঁধে ব্যথা থাকলেএক্টোপিক গর্ভাবস্থা হতে পারে। এটি জরুরি অবস্থা।
  • ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত, বিশেষ করে চাপ চাপ রক্ত গেলেগর্ভপাতের আশঙ্কা থাকতে পারে।

তাই গর্ভাবস্থার শুরুতে ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত থাকলে অপেক্ষা না করে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনেভায়াবিলিটি স্ক্যান করে শিশুর অবস্থা দেখে নেওয়া হয়।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে পেলভিক ব্যথা

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (১৩ থেকে ২৭ সপ্তাহ): এই পর্বে রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। পাশ ফিরে শোয়ার সময়, হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে বা কাশি দিলে কুঁচকিতে এক ঝলক ব্যথা হয়, আর কয়েক সেকেন্ডেই মিলিয়ে যায়। রিলাক্সিনের প্রভাবে পিউবিক হাড়ের জোড়া আলগা হতে শুরু করে, তাই সিঁড়ি ভাঙতে বা বিছানায় পাশ ফিরতে কষ্ট হয়।

তৃতীয় ত্রৈমাসিক (২৮ সপ্তাহ থেকে প্রসব): এখন বাচ্চার ওজন সবচেয়ে বেশি, তাই চাপও সবচেয়ে বেশি। এই সময়ের সাধারণ অভিযোগগুলো হল:

  • পিউবিক হাড়ে চাপ বা হাঁটার সময় “কটকট” শব্দ
  • বাচ্চার মাথা নিচে নামার পর তলপেটে ভারী ভাব ও হঠাৎ তীক্ষ্ণ খোঁচা
  • ব্র্যাক্সটন হিকস সংকোচন, যা ঘন ঘন হতে থাকে
  • দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা হেঁটে কাজ করলে সন্ধেবেলা ব্যথা বেড়ে যাওয়া

একটা কথা মনে রাখবেন। ৩৭ সপ্তাহের আগে ব্যথা যদি নিয়মিত বিরতিতে আসে আর ধীরে ধীরে তীব্র হতে থাকে, সেটা প্রিটার্ম লেবারের লক্ষণ হতে পারে। তখন অপেক্ষা না করে হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

পেলভিক ব্যথা ঠিক কেমন অনুভব হয়?

প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা, কিন্তু মায়েরা সাধারণত যেভাবে বর্ণনা করেন:

  • পিউবিক হাড়ের ঠিক উপরে ব্যথা
  • কুঁচকিতে বা উরুর ভিতরের দিকে ছুরি মারার মতো হঠাৎ খোঁচা
  • হাঁটার সময় পেলভিস থেকে ঘষার শব্দ
  • নিতম্বের পিছনে হাড়ে চিনচিনে ব্যথা
  • মনে হয় যেন তলপেটে ভারী

সাধারণত সিঁড়ি ভাঙলে, বিছানায় পাশ ফিরলে, গাড়ি থেকে নামলে, এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ালে বা অনেকক্ষণ হাঁটলে ব্যথা বাড়ে। আর বিশ্রাম নিলে কমে যায়। এটাই স্বাভাবিক পেলভিক গার্ডল পেইনের সবচেয়ে বড় চিহ্ন।

গর্ভাবস্থায় পেলভিক ব্যথা কমানোর উপায়

ভালো খবর হল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওষুধ ছাড়াই অনেকটা আরাম পাওয়া যায়। নিচের অভ্যাসগুলো চেষ্টা করে দেখুন:

  1. নড়াচড়ায় ছোট পরিবর্তন আনুন: বিছানায় পাশ ফেরার সময় দুই হাঁটু জোড়া রেখে একসঙ্গে ঘুরুন। গাড়ি থেকে নামার সময়ও দুই পা একসঙ্গে বাইরে বার করুন।
  2. একপায়ে ভর দেবেন না: প্যান্ট বা পায়জামা পরার সময় বসে পরুন, দাঁড়িয়ে নয়।
  3. মাতৃত্বকালীন সাপোর্ট বেল্ট ব্যবহার করুন: পেলভিসকে স্থিতিশীল রাখে, বিশেষত তৃতীয় ত্রৈমাসিকে খুব কাজে দেয়।
  4. দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ দিয়ে কাত হয়ে ঘুমান: বাঁ পাশ ফিরে শোয়া সবচেয়ে আরামদায়ক।
  5. গরম সেঁক নিন। কোমরে বা তলপেটে হালকা গরম সেঁক পেশি শিথিল করে। তবে খুব গরম জলে স্নান বা হিটিং প্যাড দীর্ঘক্ষণ পেটের উপর রাখবেন না।
  6. ভারী জিনিস তুলবেন না, আর একটানা বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না। কাজের ফাঁকে বসে বিশ্রাম নিন।
  7. আরামদায়ক, নিচু হিলের জুতো পরুন:
  8. কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ান:পর্যাপ্ত জল, ফাইবার আর মরসুমি ফল ব্যথার একটা বড় কারণ কমিয়ে দেয়।
  9. ফিজিওথেরাপি নিন: মেয়েদের পেলভিক হেলথে প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে গেলে ব্যক্তিগত ব্যায়ামের পরিকল্পনা পাওয়া যায়।

ব্যথা বেশি হলে ডাক্তার সাধারণত প্যারাসিটামল দিতে পারেন। তবে নিজে থেকে কোনো ব্যথার ওষুধ খাবেন না। আইবুপ্রোফেনের মতো NSAID গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে শেষ পর্বে, নিরাপদ নয়।

পেলভিক ব্যথার জন্য উপকারী ব্যায়াম

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম পেলভিক ফ্লোর ও পেটের গভীর পেশিকে শক্ত করে, ফলে ঢিলে হয়ে যাওয়া জয়েন্টগুলো বেশি সাপোর্ট পায়। শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের অনুমতি নিন।

ব্যায়াম কীভাবে করবেন উপকার
কেগেল পেলভিক ফ্লোরের পেশি ৫ সেকেন্ড চেপে ধরে ছেড়ে দিন, ১০ বার মূত্র নিয়ন্ত্রণ ও পেলভিক সাপোর্ট
পেলভিক টিল্ট চিত হয়ে বা দেয়ালে হেলান দিয়ে কোমর সামনে পিছনে দোলান কোমরের চাপ কমে
ক্যাট কাউ হাঁটু ও হাতে ভর দিয়ে ধীরে পিঠ ওঠানো নামানো মেরুদণ্ড ও পেলভিস নমনীয় হয়
ব্রিজিং চিত হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে নিতম্ব সামান্য তোলা নিতম্ব ও কোমরের পেশি মজবুত
সাঁতার ও হাঁটা সপ্তাহে ৩ থেকে ৫ দিন, ২০ থেকে ৩০ মিনিট জয়েন্টে চাপ না দিয়ে শরীর সচল থাকে

কয়েকটা জিনিস এড়িয়ে চলবেন। পা দুটো বেশি ফাঁক করে করা ব্যায়াম, গভীর স্কোয়াট, দৌড়ঝাঁপ, আর ২০ সপ্তাহের পর চিত হয়ে অনেকক্ষণ শুয়ে থাকা। কোনো ব্যায়ামে ব্যথা বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে থামুন। নিরাপদ রুটিন সাজাতেপ্রেগন্যান্সি যোগার সম্পূর্ণ গাইড দেখে নিতে পারেন।

গর্ভাবস্থায় পেলভিক ব্যথায় কখন ডাক্তার দেখাবেন?

নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন:

  • ব্যথা তীব্র, হঠাৎ শুরু হওয়া বা বিশ্রামেও না কমা
  • যোনিপথে রক্তপাত বা অস্বাভাবিক স্রাব
  • জ্বর, কাঁপুনি বা বমি
  • প্রস্রাবে জ্বালা, দুর্গন্ধ বা রক্ত
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে নিয়মিত বিরতিতে আসা সংকোচন
  • জল ভাঙা বা জলের মতো স্রাব
  • বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • মাথা ঘোরা, অজ্ঞান ভাব বা কাঁধে ব্যথা
  • হাঁটা বা দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়া

ব্যথার ধরন নিয়ে নিজে অনুমান না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। প্রয়োজনেকলকাতায় নারীদের ফার্টিলিটি ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।

গর্ভাবস্থায় পেলভিক ব্যথা কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

ডাক্তার প্রথমে বিস্তারিত ইতিহাস নেবেন — ব্যথা কোথায়, কখন বাড়ে, কতদিন ধরে, সঙ্গে আর কী লক্ষণ আছে। তারপর সাধারণত যা করা হয়:

  • শারীরিক পরীক্ষা: পেট ও পেলভিস পরীক্ষা, জয়েন্টের স্থিতিশীলতা দেখা
  • প্রস্রাব পরীক্ষা: সংক্রমণ আছে কি না বোঝার জন্য
  • আল্ট্রাসাউন্ড: বাচ্চার অবস্থান, প্লাসেন্টা, সারভিক্সের দৈর্ঘ্য এবং সিস্ট বা একটোপিক গর্ভধারণ যাচাই
  • রক্ত পরীক্ষা: সংক্রমণ, রক্তাল্পতা বা hCG মাত্রা দেখার জন্য
  • CTG বা ফিটাল মনিটরিং: তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সংকোচন ও বাচ্চার হৃদস্পন্দন পরিমাপ

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরীক্ষায় গুরুতর কিছু ধরা পড়ে না, আর চিকিৎসা হয় ফিজিওথেরাপি, সাপোর্ট বেল্ট ও জীবনযাত্রার ছোট বদল দিয়ে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

  • গর্ভাবস্থায় পেলভিক ব্যথা কীভাবে কমাব? 

বিশ্রাম, গরম সেঁক, সাপোর্ট বেল্ট, দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ দিয়ে কাত হয়ে ঘুমানো, একপায়ে ভর না দেওয়া এবং হালকা পেলভিক ব্যায়াম, এই কয়েকটি অভ্যাসেই বেশিরভাগ মা আরাম পান। ব্যথা না কমলে ফিজিওথেরাপি ও ডাক্তারের পরামর্শে প্যারাসিটামল নেওয়া যেতে পারে।

  • পেলভিক ব্যথা মানেই কি বাচ্চা নিচে নেমে গেছে?

সবসময় নয়। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বাচ্চার মাথা পেলভিসে বসলে তলপেটে চাপ ও ভারী ভাব বাড়ে ঠিকই, কিন্তু একই ব্যথা লিগামেন্টের টান, গ্যাস বা পেলভিক গার্ডল পেইন থেকেও হতে পারে। বাচ্চা নিচে নামলে সাধারণত শ্বাস নিতে সুবিধা হয় আর ঘন ঘন প্রস্রাব পায়।

  • কখন পেলভিক ব্যথা নিয়ে চিন্তা করা উচিত?

ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত, জ্বর, প্রস্রাবে জ্বালা, জল ভাঙা, নিয়মিত সংকোচন, বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া বা মাথা ঘোরা থাকলে সেটি জরুরি অবস্থা। এছাড়া ব্যথা এতটাই তীব্র হলে যে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে না তখনও ডাক্তার দেখানো দরকার।

  • ২৫ সপ্তাহে পেলভিক ব্যথা হওয়া কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, এটি বেশ সাধারণ। এই সময় জরায়ু দ্রুত বড় হচ্ছে এবং রিলাক্সিনের প্রভাবে জয়েন্ট ঢিলে হচ্ছে, তাই লিগামেন্টে টান ও পিউবিক হাড়ে চাপ অনুভব হয়। ব্যথা যদি আসা-যাওয়া করে এবং বিশ্রামে কমে যায়, তাহলে উদ্বেগের কিছু নেই।

  • পেলভিক ব্যথা কি গর্ভপাতের লক্ষণ হতে পারে?

একা পেলভিক ব্যথা সাধারণত গর্ভপাতের লক্ষণ নয়। তবে ব্যথার সঙ্গে যদি যোনিপথে রক্তপাত, ক্রমশ বাড়তে থাকা খিঁচুনি বা জমাট বাঁধা রক্ত বেরোয়, তাহলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

To know more

Birla Fertility & IVF aims at transforming the future of fertility globally, through outstanding clinical outcomes, research, innovation and compassionate care.

Need Help?

Talk to our fertility experts

Had an IVF Failure?

Talk to our fertility experts